হজসনি চোখগেলো | Hodgson’s Hawk-Cuckoo | Hierococcyx nisicolor

637

ছবি: ইন্টারনেট।

বাংলাদেশের অনিয়মিত পাখি। চলার পথের প্রজাতি। অতি বিরল দর্শন। দেখতে পরিচিত প্রজাতির ‘চোখগেলো’ পাখির মতোই। চিরসবুজ ও আর্দ্র পাতাঝরা বনে বিচরণ করে। বিচরণ করে পাহাড়ি এলাকায়। জলাশয়ের কাছাকাছি বাঁশবন এদের খানিকটা পছন্দের। গ্রামীণ বন-জঙ্গলেও দেখা যাওয়ার তথ্য রয়েছে। খাবার খোঁজে ঝোপ-জঙ্গল কিংবা বনতলে। স্বভাবে খানিকটা হুঁশিয়ারি ও লাজুক বিধায় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে পছন্দ করে। বিচরণ করে একাকী। প্রজনন মৌসুমে জোড়ায় দেখা যায়। রাগী রাগী চেহারা। চেহারায় হিংস্রতার ছাপও লক্ষ্য করা যায়। ঠোঁট ও পায়ের নখর শিকারি পাখিদের মতো তীক্ষè। শিকারি পাখিদের মতো মুখের অবয়বও। ফলে ছোট প্রজাতির পাখিরা ওদেরকে দেখলে সমীহ করে।

পারতপক্ষে ওদের কাছে খুব একটা ভিড়তে চায় না ছোট পাখিরা। ভয় পায়। কণ্ঠস্বর কর্কশ। পুরুষ পাখি প্রজনন মৌসুমে কর্কশ কণ্ঠে ডাকে, ‘গী-হোয়িজ.. গী-হোয়িজ…’ সুরে। দেশে যত্রতত্র দেখা যাওয়ার নজির নেই। ইতিপূর্বে ঢাকা বিভাগে দেখা যাওয়ার তথ্য রয়েছে। হালে ও ধরনের রেকর্ড নেই। বাংলাদেশ ছাড়া বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, জাপান, ফিলিপাইন ও সাইবেরিয়া পর্যন্ত। বাংলাদেশে বিরল দর্শন হলেও এরা বিশ্বে বিপদমুক্ত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত।

পাখির বাংলা নাম: ‘হজসনি চোখগেলো’, ইংরেজি নাম: হজসন’স হক্ কাক্কু (Hodgson’s Hawk-Cuckoo), বৈজ্ঞানিক নাম: Hierococcyx nisicolor | এরা কোনো কোনো দেশে ‘বাজপাখি-কোকিল’ নামে পরিচিত।

দৈর্ঘ্য কমবেশি ৩১ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় তেমন পার্থক্য নেই। পুরুষ পাখির মাথা, ঘাড় ও পিঠ সেøট-ধূসর। লেজ সজ্জিত ধূসর-কালো পট্টিতে। লেজের অগ্রভাগ লালচে। থুঁতনি সেøট-ধূসর। গলা সাদাটে। দেহতল লালচে-বাদামি। ঠোঁটের গোড়া এবং প্রান্ত হলদেটে, মধ্যের অংশ শিঙ কালো। চোখের মণি গোলাপি, বলয় হলুদ। পায়ের পাতা শিঙ-বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের পিঠ পীতাভ বর্ণসহ কালচে-বাদামি। দেহতলে কালচে চিতি।

প্রধান খাবার শুঁয়োপোকা, গুবরে পোকা, পঙ্গপাল, রসালো ফল। প্রজনন মৌসুম গ্রীষ্মকাল। হিমালয় অঞ্চল থেকে শুরু করে চীন ও সাইবেরিয়ায় প্রজনন ঘটে। ডিম পাড়ে শাহবুলবুলি বা খাটোডানা পাখির বাসায়। ডিম জলপাই বাদামি বর্ণের। ডিম ফোটে পালক মাতার নিজের ডিমের সঙ্গে সময় মিলিয়ে।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 12/06/2015