সাদাডানা গাংচিল | White winged Tern | Chlidonias leucopterus

1036

mk200516ছবি: গুগল|

দেখতে রাগী রাগী চেহারার মনে হলেও স্বভাবে এরা শান্ত। ঝগড়াঝাটি তেমন পছন্দ নয়। তবে নিজেদের মধ্যে কম-বেশি ঝগড়া বাধলেও তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গড়ায় না এবং খুব বেশি হিংস্রতাও দেখায় না। এ সময় বিরক্ত হয়ে কর্কশ কণ্ঠে ডেকে ওঠে ‘ক্রাআ-ক্রা-আ’ সুরে। প্রজাতির উপস্থিতি দেশে তত সন্তোষজনক নয়। শিকারি পাখি ব্যতিরেকে এদের পারতপক্ষে কেউ তেমন একটা ঘাটায় না।

বাংলাদেশ ছাড়াও বৈশ্বিক বিস্তৃতি দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ার উপকূল, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ, নিউজল্যান্ড, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। এ ছাড়াও উত্তর আমেরিকার আটলান্টিক উপকূলীয় এলাকায়ও বিচরণ রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০০০ মিটার উচ্চতায়ও এদের দেখা মেলে। ‘সাদাডানা গাংচিল’ পরিযায়ী প্রজাতির পাখি। সিøম গড়ন। উপকূলীয় অঞ্চলের নদ-নদীতে দেখা মেলে। বিচরণ করতে দেখা যায় বালুবেলাতেও। এ ছাড়া কৃষি জমিতে বিচরণ রয়েছে। মিঠা জলের চেয়ে লবণ জলে বিচরণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সাগরের কাছাকাছি এলাকায় বেশি দেখা যাওয়ার মূল কারণই এটি। বিচরণ করে ছোট-বড় দলে। কলোনি টাইপ বাসা বাঁধে। চলাচলরত নৌযানকে অনুসরণ করতে দেখা যায় প্রায়ই। নৌযানের পেছন পেছন চক্কর মেরে উড়ে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাছ শিকারের উদ্দেশে।

পাখির বাংলা নাম: ‘সাদাডানা গাংচিল’, ইংরেজি নাম: ‘হোয়াইট-উইংগেড টার্ন’, (White-winged Tern), বৈজ্ঞানিক নাম: Chlidonias leucopterus | এরা ‘ধলাপাখ পানচিল’ নামেও পরিচিত।

দৈর্ঘ্য ২২-২৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৩ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা অভিন্ন। মাথা, ঘাড়, গলা, বুক ও পেট কুচকুচে কালো। ডানার গোড়া ধবধবে সাদা। মধ্যখান থেকে লেজ পর্যন্ত ধূসর সাদা। লেজতল সাদা। ওড়ার পালক কালো-ধূসর সাদা। চোখের বলয় কালো। ঠোঁট বাদামি। পা ও আঙ্গুল কমলা-লাল।

প্রধান খাবার: ছোট মাছ, সামুদ্রিক কৃমি। এ ছাড়াও বালুচরে ঘুরে পোকামাকড় সরীসৃপ, শুককীট খেতে দেখা যায়। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। জলাশয়ের কাছাকাছি বেলাভূমি এলাকায় ঘাস, লতাপাতা বিছিয়ে বাসা বানায়। অথবা মাঠের পাশে ভাসমান গুল্মঝোপেও বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ২-৪টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮-২২ দিন। শাবক স্বাবলম্বী হতে সময় লাগে ২৮-৩৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 20/05/2016