চিতিপেট হুতুমপেঁচা | Spot bellied eagle owl | Bubo nipalensis

0
1060

ছবি: গুগল|

রাতচরা পাখি। আকারে বড়সড়ো। স্বভাবে হিংস ন বারবার। দিনের বেলায় গাছের পাতার আড়ালে বা বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে থাকে। রাতে ‘হুহু… হুহু’ আওয়াজ করে মানুষের পিলে চমকে দেয়। প্রাকৃতিক আবাসস্থল ঘন চিরহরিৎ এবং আর্দ্র পর্ণমোচী বন, নদীর তীরবর্তী ঘন বন, পাহাড়ি অঞ্চল, হিমালয় অঞ্চলসহ ট্রপিকাল রেনফরেস্ট। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত। বিশ্বে এদের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। বলা যায়, অঞ্চলভেদে বিরল দর্শন।

পাখির বাংলা নাম: ‘চিতিপেট হুতুমপেঁচা’, ইংরেজি নাম: ‘স্পট-বেলিড ঈগল আউল’ (Spot-bellied Eagle Owl), বৈজ্ঞানিক নাম: Bubo nipalensis | এদের অন্য নাম ‘বুনো হুতুমপেঁচা’ (ফরেস্ট ঈগল আউল)।

প্রজাতি দৈর্ঘ্যে ৫৮-৬৪ সেন্টিমিটার। ওজন ৩.৭ পাউন্ড। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। মুখমণ্ডল গোলাকার। কান পশম আছে। মাথা ধূসর সাদার ওপর কালচে ফোঁটা। পিঠ হরিদ্রাভ বাদামি ওপর কালচে-বাদামি চিতি। ডানার পান্ত পালকে কালচে-বাদামি চিতি। দেহতলে ক্রিম সাদা চিতি। লেজ খাটো, কালচে বাদামি। লেজতলে সাদা-কালো ডোরা। খাটো ঠোঁট ক্রিম সাদা বড়শির মতো বাঁকানো। মার্বেলের মতো গোলাকার চোখ গাঢ় বাদামি রঙের। পা হলদে সাদা। পায়ের আঙ্গুল হরিদ্রাভ-ধূসর। পায়ে পশম আছে।

প্রধান খাবার: সাপ, ইঁদুর, টিকটিকি, বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ, ছোট পাখি, মাছ ও গলিত মাংস। প্রজনন মৌসুম ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে গাছের প্রাকৃতিক কোটরে। ডিম পাড়ে ১টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৮-৩০ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 01/10/2016