ছোটকান পেঁচা | Short Eared Owl | Asio flammeus

0
1402

mk041116ছবি: গুগল|

ভয়ঙ্কর দর্শন। গোলাকার চোখ। গোলাকার শারীরিক গঠনও। স্বভাবে হিংস নয়। বৈশ্বিক বিস্তৃতি এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত। শীতে পরিযায়ী হয়ে আসে বাংলাদেশে। নিশাচর পাখি হলেও রাতের আঁধার ঘনিয়ে আসার ঘণ্টা খানেক আগেই শিকারে বের হয়। প্রশস্ত তৃণভূমি, মোহনা অঞ্চল, কৃষি জমি, বালিয়াড়ি কিংবা পাহাড়ি অঞ্চলে খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। ঘন জঙ্গল এদের পছন্দ নয়। একাকি জোড়ায় কিংবা ছোট দলে দেখা যায়। মাথা ঘুরিয়ে চারদিকে উড়ন্ত পোকামাকড় ইঁদুর বা সরীসৃপজাতীয় প্রাণীর গতিবিধি লক্ষ্য করে।

পাখির বাংলা নাম: ‘ছোটকান পেঁচা’, ইংরেজি নাম: ‘শর্ট ইয়ার্ড আউল’, (Short Eared Owl), বৈজ্ঞানিক নাম: Asio flammeus |

দৈর্ঘ্য কমবেশি ৩৩-৪৩ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ১০৫-১০৭ সেন্টিমিটার। ওজন পুরুষ পাখি ২০০-৪৫০ গ্রাম। স্ত্রী পাখির ওজন ২৮০-৫০০ গ্রাম। পুরুষের চেয়ে স্ত্রী পাখি খানিকটা বড়। গায়ের রঙে সামান্য পার্থক্যও রয়েছে। মাথা বড়। কান খাটো। বাইরে থেকে নজরে পড়ে না। গোলাকার মুখ ধূসরাভ সাদা। পিঠে কালো-সাদা-বাদামি বুটিক। কারো কারো গায়ে হলদে-তামাটে মিশ্রণ দেখা যায়। লেজ খাটো। দেহের নিচের দিকে হলদে সাদার সঙ্গে কালো রেখাযুক্ত। গোলাকার চোখের তারা সালফার-হলুদ। কখনো কখনো উজ্জ্বল হলুদ হয়। চোখের কোটর কালো। ভ্রু সাদা। ঠোঁট খাটো, কালো। পা পালকে আবৃত। পায়ের আঙ্গুল সাদাটে ক্রিম ফ্যাকাসে। নখ কালো।

প্রধান খাবার: ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, খরগোশ, বাদুর, ফড়িং, তেলাপোকা, টিকটিকিসহ অন্যান্য সরীসৃপ। প্রজনন মৌসুম উত্তর গোলার্ধে মার্চ থেকে জুন। অন্যান্য অঞ্চলে প্রজনন মৌসুমের হেরফের দেখা যায়। মরা গাছের প্রাকৃতিক কোটরে অথবা শুকনো মাটিতে ঘাস-লতা বিছিয়ে গড়ে ৪-৭টি ডিম পাড়ে। কোনো কোনো পেঁচাকে ৪-১২টি ডিম পাড়তে দেখা যায়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৪-২৯ দিন। শাবক স্বাবলম্বী হতে মাসখানেক লেগে যায়। বয়ঃপ্রাপ্ত হতে সময় লাগে এক বছর। গড় আয়ু ১৩ বছর।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 04/11/2016