সুরেলা ঝাড়ভরত | Singing Bush Lark | Mirafra cantillans

773

mk241116ছবি: গুগল|

দেশে মোট সাত প্রজাতির ‘ভরত পাখি’ দেখা যায়। তন্মধ্যে দুই প্রজাতি পরিযায়ী। বাদবাকিরা দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। এদের মধ্যে কেউ নাচিয়ে ভরত, কেউ গায়ক ভরত। তবে সব ধরনের ভরতই দেখতে চড়–ই পাখিদের মতো। আকার-আকৃতিও তদ্রুপ। এদের মধ্যে ‘সুরেলা ঝাড়ভারত’ অন্যতম গায়ক পাখি। কণ্ঠস্বর সুমধুর। দক্ষিণ এশিয়ায় কম-বেশি নজরে পড়ে। মূলত এরা শুষ্ক বেলে মাটিতে বিচরণ করে। বিশেষ করে নদ-নদীর তটে বা দ্বীপাঞ্চলের বেলাভূমিতে বেশি দেখা যায়। নিয়মিত গোসালাদি করে। ধুলোস্নান বেশি পছন্দ। ফসল কাটা হয়েছে এমন ক্ষেতেও ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। শরীর দুলিয়ে গান গাইতে গাইতে খাবারাদি খোঁজে। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখি বেশি বেশি গান গায়। বিশ্বব্যাপী হুমকি না হলেও আইইউসিএন ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এদের।

পাখির বাংলা নাম: ‘সুরেলা ঝাড়ভরত’, ইংরেজি নাম: ‘সিংগিং বুশলার্ক’ (Singing Bush Lark), বৈজ্ঞানিক নাম: Mirafra cantillans | এরা ‘গায়ক ভরত’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতিটি দৈর্ঘ্যে ১৩ সেন্টিমিটার। ওজন ১৫-২১ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে প্রায় একই রকম হলেও সামান্য পার্থক্য রয়েছে। মাথা, ঘাড়, পিঠ ও লেজ ফ্যাকাসে-বাদামির সঙ্গে কালচে বাদামি ফোটা রয়েছে। লেজ খাটো। বুক, পেট ও লেজতল ফ্যাকাসে। ঠোঁট হালকা হলুদের সঙ্গে পোড়ামাটির আভা। চোখ বাদামি। পা ও পায়ের আঙ্গুল গোলাপি লাল।

প্রধান খাবার: অমেরুদণ্ডী প্রাণী, ছোট পোকামাকড়, ঘাস বিচি, কচিঘাসের ডগা ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুম মে থেকে অক্টোবর। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে ঘাসবনে অথবা নলবনে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শুকনো ঘাস-লতা, শুকনো ধানপাতা, খড়কুটো ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১০-১৩ দিন। শাবক উড়তে শেখে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 25/11/2016