পাহাড়ি কানকুয়া | Lesser Coucal | Centropus bengalensis

1094
পাহাড়ি কানকুয়া | ছবি: ইন্টারনেট

কোকিল পরিবারের সদস্য হলেও নিজেরা বাসা বানাতে সক্ষম। দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃতি রয়েছে। দেশের সর্বত্রই কমবেশি দেখা যায়। স্বভাবে হিংস্র। গাছ-গাছালির চেয়ে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে বেশি দেখা যায়। ওড়াউড়ি তেমন পছন্দের নয়। অবশ্য খুব ভালো উড়তেও জানে না। ঝোপ-জঙ্গলের ভেতরে হেঁটে হেঁটে খাবার সংগ্রহ করে। ক্ষণে ক্ষণে ‘বুট-বুট-বুট’ সুরে উচ্চকণ্ঠে ডেকে ওঠে। নির্জন দুপুরে কিংবা গভীর রাতে আচমকা ডেকে ওঠে মানুষের পিলে চমকে দেয়।

পাখিদের কাছে এরা ডাকাত পাখি নামে পরিচিত। বিশেষ করে ছোট পাখিদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে। ছোট পাখিদের বাসার সন্ধান পেলে তছনছ করে দেয়। পায়ের শক্ত নখ এবং তীক্ষ ঠোঁট দিয়ে বাসা ফালা ফালা করে ডিম-বাচ্চা খায়। যেসব পাখি গাছের কোটরে ডিম পাড়ে ওদের ডিম-বাচ্চাও রেহাই পায় না। গাছের কোটরে লম্বা পা ঢুকিয়ে ডিম-বাচ্চা বের করে আনে। হিংস্রতায় অদ্বিতীয় হলেও এরা নিজেদের সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখে। নিয়ম করে প্রত্যহ গোসলাদি সেরে নেয়। বিশ্বে এদের অবস্থান সন্তোষজনক।

পাখির বাংলা নাম: ‘পাহাড়ি কানকুয়া’, ইংরেজি নাম: ‘লেসার কুকাল’ (Lesser Coucal), বৈজ্ঞানিক নাম: Centropus bengalensis | অঞ্চলভেদে ‘কানাকোকা, হাঁড়িকুড়ি, কুক্কাল, বাংলা কুবো’ নামে পরিচিত।

সাধারণত দুই প্রজাতির কানকুয়া দেখা যায়। বড় কানকুয়া ও পাহাড়ি কানকুয়া। দৈর্ঘ্য ৩১-৩৪ সেন্টিমিটার। ওজন ৮৮ গ্রাম। স্ত্রী পাখি পুরুষের তুলনায় কিছুটা বড়। চেহারায় পার্থক্য নেই। দেহের তুলনায় লেজ খানিকটা লম্বা। মাথা, ঘাড়, বুক, পেট নীলাভ কালো। পিঠ উজ্জ্বল বাদামি। লেজ ধাতব কালো। চোখ টকটকে লাল। তবে মনিটা কালো। নীলচে কালো ঠোঁটের অগ্রভাগটা বাঁকানো। পা ধাতব কালো। যুবাদের চেহারা ভিন্ন।

প্রধান খাবার: পাখির ডিম-বাচ্চা, ছোট সাপ, গিরগিটি, ইঁদুর, কেঁচো, পঙ্গপাল, ফড়িং, লোমশ শুঁয়োপোকা ইত্যাদি। প্রজনন সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর। বাসা বানায় বাঁশঝাড় অথবা ঘন পাতার গাছে। এছাড়াও অন্যান্য ঝোপ জঙ্গলের ভেতরেও বাসা বাঁধে। বাসা বানাতে ব্যবহার করে কাঠি, বাঁশপাতাসহ নানা ধরনের লতাপাতা। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৬ দিন। শাবক উড়তে শেখে ৪০ দিনের মধ্যে।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 11/09/2015

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.