কাঁকড়াভোজী বাটান | Crab Plover | Dromas ardeola

603


ছবি: ইন্টারনেট।

বিচরণক্ষেত্র উপকূলীয় এলাকার জলাশয়, দ্বীপ এবং সাগর মোহনা। বাংলাদেশে পরিযায়ী হয়ে আসে। প্রাকৃতিক আবাসস্থল ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর, আরব সাগর, ওমান উপসাগর, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, তাঞ্জানিয়া, মাদাগাস্কার এবং পূর্ব শ্রীলঙ্কা। দেখতে চমত্কার। সাদা-কালো চেহারা। অন্যসব বাটান প্রজাতির মতো গাট্টাগোট্টা চেহারা হলেও আকারে খানিকটা উঁচু। বিচরণ করে ছোট-বড় দলে। একাকী খুব একটা দেখা যায় না। অন্যসব বাটনদের সঙ্গেও বিচরণ করে। শিকার খুঁজতে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে না। বড়জোর হাঁটু সমান জলে নামে। দিনভর সৈকতে কাঁকড়া খুঁজে বেড়ায়। স্বভাবে শান্ত হলেও নিজেদের মধ্যে খুনসুটি বাধে মাঝে-মধ্যে। বিশ্বব্যাপী হুমকি না হলেও প্রজাতিটিকে আইইউসিএন ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

পাখির বাংলা নাম:‘কাঁকড়াভোজী বাটান’| ইংরেজি নাম:‘ক্রাব প্লোভার’(Crab Plover)| বৈজ্ঞানিক নাম: (Dromas ardeola) | এরা ‘কাঁকড়া জিরিয়া’ নামেও পরিচিত।

এরা দৈর্ঘ্যে ৩৮-৪১ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ৭৫-৭৮ সেন্টিমিটার। ওজন ২৩০-৩২৫ গ্রাম। মাথা, ঘাড় ধবধবে সাদা। পিঠ কালো। ডানা ধবধবে সাদা, কিনারা কালো। লেজ খাটো, কালো। গলা থেকে বস্তি প্রদেশ পর্যন্ত ধবধবে সাদা। চোখ কালো। ঠোঁট মোটা কুচকুচে কালো। লম্বা পা নীলাভ-ধূসর, হাঁসের পায়ের পাতার মতো জোড়া লাগানো।

প্রধান খাবার কাঁকড়া। এছাড়াও সামুদ্রিক কৃমি ও জলজ পোকামাকড় খায়। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুলাই। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে বালুকারাশি অথবা পাথরের ওপর। ডিম পাড়ে ৩-৪টি। ডিম ফুটতে সময় ৩০-৩৩দিন। প্রাপ্তবয়স্ক হতে ১৫ মাসের মতো সময় লাগে।

লেখক: আলমশাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, 18/03/2017