হলুদবুক বাঘেরি | Yellow breasted Bunting | Emberiza aureola

698

ছবি: ইন্টারনেট।

বাংলা নাম: ‘হলুদবুক বাঘেরি’। ইংরেজি নাম: ‘ইয়েলো-ব্রেস্টেড বান্টিং’ (Yellow-breasted Bunting)। বৈজ্ঞানিক নাম: Emberiza aureola | এরা ‘হলদেবুক চটক’ নামেও পরিচিত।

পরিযায়ী পাখি। দেশে আগমন ঘটে শীতে। দেখতে অনেকটাই চড়ুই পাখির মতো, আকার-আকৃতিও তদ্রূপ। প্রাকৃতিক আবাসস্থল জঙ্গলময় পর্ণমোচী বনাঞ্চল। জলাশয় এলাকার আশপাশের নলখাগড়া কিংবা ঝোপজঙ্গলে বিচরণ করে। শস্য খেতে ঝাঁকে ঝাঁকে হানা দেয়। একাকী কিংবা জোড়ায়ও বিচরণ করে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, মধ্য ও পূর্ব নেপাল, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, কোরিয়া, জাপান, পূর্ব রাশিয়া, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইউরোপ পর্যন্ত। প্রজাতিটি বিশ্বে ভালো অবস্থানে নেই। আইইউসিএন এদের বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ পাখি দৈর্ঘ্যে ১৪-১৫ সেন্টিমিটার। ওজন ১৪-৩৩ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা ভিন্ন। পুরুষ পাখির কপাল, গালের দুই পাশ এবং গলার ওপরের অংশ কালো। মাথার তালু ও ঘাড় গাঢ় বাদামি। পিঠ গাঢ় বাদামির সঙ্গে কালো-সাদার মিশ্রণ।

ডানার মধ্য সারির পালকে চওড়া সাদা দাগ। লেজ হালকা বাদামি। গলার মাঝামাঝি থেকে বুক ও পেট উজ্জ্বল হলুদ। মাঝেমধ্যে কালো ছিট দেখা যায়। বস্তিপ্রদেশ হলদেটে সাদা। ঠোঁট ত্রিকোণাকৃতির শক্ত মজবুত। ঠোঁটের ওপরের অংশ শিং কালো, নিচের অংশ ফ্যাকাশে। পা ময়লা গোলাপি। স্ত্রী পাখির মাথায় আঁকিবুঁকি দাগ। পিঠ ঝাপসা বাদামির ওপর খাড়া কালো ডোরা। ডানায় সাদা পট্টি। দেহতল ফ্যাকাশে।

এদের প্রধান খাবার শস্যবীজ, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, ঘাসের কচি ডগা। প্রজনন মৌসুম মধ্য জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত। বাসা বাঁধে শুকনো লতাপাতা দিয়ে। ডিম পাড়ে ৪ থেকে ৬টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১২-১৪ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 24/03/2017