বেগুনি কোচোয়া | Purple Cochoa | Cochoa purpurea

974

ছবি: গুগল |

মূলত প্রজাতিটির নিজস্ব বাসভূম অদ্যাবধি নির্ণয় করা যায়নি। ফলে এখনো অজানা রয়েছে এরা আবাসিক নাকি পরিযায়ী প্রজাতির পাখি। তবে বৈশ্বিক বিস্তৃতি নির্ণয় করা গেছে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন, লাওস, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি। প্রাকৃতিক আবাসস্থল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র নিম্ন ভূমির বন। এ ছাড়াও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র পার্বত্য অরণ্যেও দেখা মেলে। দেখা মেলে ঘন ও আর্দ্র চওড়া পাতার চিরহরিৎ বনে। আবার আর্দ্র লতাগুল্মের জঙ্গলেও দেখা মেলে। এরা গান গায় অদ্ভুত সুরে। লম্বা সুরে টেনে টেনে গান গায়। বিশ্বে প্রজাতিটির অবস্থান সন্তোষজনক।

পাখির বাংলা নাম: ‘বেগুনি কোচোয়া’, ইংরেজি নাম: ‘পার্পেল কোচোয়া’ (Purple Cochoa), বৈজ্ঞানিক নাম: Cochoa purpurea | এরা ‘বেগুনি পাখি’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতি দৈর্ঘ্যে ২৫-২৮ সেন্টিমিটার। ওজন ১০০-১০৬ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা ভিন্ন। পুরুষ পাখির মাথা রূপালি নীল। পিঠ, ডানা ও কোমর গাঢ় বেগুনি। ডানার প্রান্ত পালক রূপালি নীলচে এবং কালো। লেজ রূপালি নীল। রেজের প্রান্ত পালক কালচে নীল। মুখায়ব কালো। স্ত্রী পাখি ধূসর নীলচে। উভয়ের চোখ, ঠোঁট নীলচে কালো। পা নীলচে।

প্রধান খাবার: ছোট ফল, বীজ ও পোকামাকড়। প্রজনন মৌসুম মে থেকে জুলাই। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। ভূমি থেকে ৩-৬ মিটার উঁচুতে কাপ আকৃতির বাসা বাঁধে। উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শৈবাল, গাছের তন্তু ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ২-৪টি।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 16/06/2017