লম্বাঠোঁটি শকুন | Cinereous Vulture | Aegypius monachus

0
1046

ছবি: ইন্টারনেট।

হিংস্র চেহারার মনে হলেও তত হিংস্র নয়। আকারে বড়সড়ো। অধিক ওজনের কারণে হাঁটাচলা করতে খানিকটা বেগ পেতে হয়। ভারিক্কিচালে হেলেদুলে কিংবা লাফিয়ে হাঁটাচলা করে। পাহাড়ি অঞ্চলে বেশি নজরে পড়ে। দেশে পরিযায়ী হয়ে আসে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, হিমালয় অঞ্চল, আফগানিস্তান, পর্তুগাল, দক্ষিণ ফ্রান্স, গ্রিস, স্পেন, তুরস্ক, মঙ্গোলিয়া, চীন পর্যন্ত। বিশ্বে এদের অবস্থান সন্তোষজনক নয়।

একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে যাচ্ছি এবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগে ছেলের ভর্তির সময়সীমা প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। সময় খুব বেশি নেই, বড়জোর ২৫ মিনিট। এমতাবস্থায় আমাকে উদ্ধার করেছেন প্রাচ্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মলয় বালা। আমার পরিচয় জেনে তিনি নিজের গাড়িতে বসিয়ে আমাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেন। প্রসঙ্গক্রমে জানিয়েছেন, পাখ-পাখালি নিয়ে আমার লেখা নিয়মিত পড়েন। এ ছাড়া তিনি নিজেও লেখালেখি করেন। খুব সাহায্য করেছেন চারুকলা অনুষদের সেকশন অফিসার প্রদীপ সরকার। এদিকে আমার সহকর্মী আবদুর রব বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে দিয়েছেন হন্তদন্ত হয়ে। এবং খুব দ্রুত কাগজপত্রে সই-স্বাক্ষর করে দিয়েছেন মিরকাদিম পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন। কৃতজ্ঞ সবার কাছে আমি। এসবই সম্ভব হয়েছে বন্যপ্রাণীকে ভালোবাসার কারণে। প্রিয় পাঠক ফিরে যাচ্ছি মূল প্রসঙ্গে।

পাখির বাংলা নাম: ‘লম্বাঠোঁটি শকুন’, ইংরেজি নাম: ‘সিনেরিয়াস ভালচার’, (Cinereous Vulture) বৈজ্ঞানিক নাম: Aegypius monachus।
দৈর্ঘ্য কমবেশি ৯৮-১১০ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ২৫০-২৯৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৭-১২ কেজি। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা অভিন্ন। মাথা, পিঠ গাঢ় বাদামি সঙ্গে নীলচে ধূসরের মিশ্রণ রয়েছে। ঘাড় নীলচে ধূসর। ডানার পালক প্রান্ত কালচে বাদামি। ওড়ার পালক সাদা-কালো। লেজ খাটো কালচে বাদামি। গলা ময়লা সাদা চামড়ায় আবৃত। দেহতল কালচে বাদামি। ঠোঁটের গোড়া নীলচে ধূসর, অগ্রভাগ কালো। ওপরের ঠোঁটের অগ্রভাগ বড়শির মতো বাঁকানো। পা ধূসর হলেও গোলাপি আভা বের হয়।

প্রধান খাবার: সব ধরনের মৃতদেহ বা উচ্ছিষ্ট খাবার শামুক, পাখির ডিম, ছোট পাখি, খরগোশ, সরীসৃপ ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুম জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে উঁচু গাছের ডালে সরু লাঠি দিয়ে। ডিম পাড়ে ১-২টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৫০-৫৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 20/01/2018