হলদেপেট ফুটকি | Yellow-bellied Warbler | Abroscopus superciliaris

0
604

প্রাকৃতিক আবাসস্থল চিরহরিৎ বনের বেড়ে ওঠা গাছপালা, পাহাড়ের পাদদেশ ও বাঁশবন। চড়–ই আকৃতি পাখি। দেখতে চমৎকার। নজরকাড়া রূপ। বিচরণ করে একাকী কিংবা জোড়ায়ও। অস্থিরমতি পাখি। স্বভাবে চঞ্চল। প্রজাতির বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, চীন, লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। বিশ্বে এদের অবস্থান সন্তোষজনক হলেও দেশে যত্রতত্র দেখা যায় না।। প্রিয় পাঠক, এবার ভিন্ন প্রসঙ্গ। সিরিজের এ ফিচারটি লেখার মতো মানসিক অবস্থা ছিল না আমার। ছেলেটা ভীষণ অসুস্থ। টাইফয়েড হয়েছে। এমতাবস্থায় বন্ধু ডা. মিজানুর রহমান উদ্ধার করেছেন। ছেলেকে তার রিকাবী বাজারের চেম্বারে নিয়ে গেলে তিনি বিনা পয়সায় রোগী দেখে দেন (অবশ্য ফি সাধার সাধ্য আমার নেই)। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করে দেন। ধন্যবাদ এ প্রকৃতিপ্রেমী বন্ধুকে। আজকের লেখাটা তাকেই উৎসর্গ করলাম, ফিচারটা লেখার মতো মানসিকতা তৈরি করে দেয়ার জন্য। মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাচ্ছি আবার।

পাখির বাংলা নাম: ‘হলদেপেট ফুটকি’, ইংরেজি নাম: ‘ইয়লো-বেলিড ওয়ার্বলার (Yellow-bellied Warbler), বৈজ্ঞানিক নাম: Abroscopus superciliaris| এরা ‘হলুদপেট বিশিষ্ট পাতা ফুটকি’ নামেও পরিচিত।

গড় দৈর্ঘ্য ৯ সেন্টিমিটার। ওজন ৬-৭ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। তুলনামূলক পুরুষ সামান্য লম্বা। মাথা ধূসর। ঘাড়, পিঠ ও লেজ হলদে জলপাই। নীলাভ ধূসর। পিঠের মাঝ বরাবর নীলাভ ধূসর। দু’পাশ জলপাই সবুজ। ডানার প্রান্ত পালক গাঢ় বাদামি। ডানার মাঝখানে হলটেদে চওড়া দাগ। লেজ হলুদাভ সবুজ। থুতনি ও গলা ধূসর সাদা। বুকের নিচ থেকে ক্রমশ হলদে হয়ে লেজতলে মিলেছে। চোখের ওপরে চওয়া সাদা টান। চোখের মনি বাদামি। ঠোঁট কালচে বাদামি। পা হলদে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের রঙ ভিন্ন।

প্রধান খাবার: ছোট মাকড়সা, মশা, ছোট পোকামাকড়। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুন। অঞ্চলভেদে ভিন্ন। বাসা বাঁধে শুকনো ঘাস দিয়ে পেঁচিয়ে কাপ আকৃতির বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৪-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১২-১৪ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণীবিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 23/02/2018