ঝুঁটি হাঁস | Tufted Duck | Aythya fuligula

0
866

ছবি: গুগল|

সুলভ দর্শন পরিযায়ী পাখি ‘ঝুঁটি হাঁস’। শীতে সাইবেরিয়া ও উত্তর ইউরোপ থেকে পরিযায়ী হয়ে আসে আমাদের দেশে। আশ্রয় নেয় হাওর-বাঁওড় কিংবা বড়সড়ো জলাশয়ে। তবে যে সব জলাশয়ের গভীরতা ৩-৫ মিটারের কম, কিন্তু ১৫ মিটারের বেশি, সে সব জলাশয়ে সাধারণত এরা বিচরণ করে না। ঝুঁটি হাঁস বিচরণ করে ঝাঁক বেঁধে। নিজ প্রজাতির বাইরের হাঁসদের সঙ্গেও দলবেঁধে শিকারে বের হয়। আবার পানকৌড়ি পাখিদের সঙ্গেও এদের সখ্য রয়েছে। এরা শিকার খুঁজে ডুবিয়ে ডুবিয়ে। একেবারে জলতলে গিয়ে জলজ লতাপাতা থেকে শিকার বের করে আনে। শিকাররত অবস্থায় ‘হু-ওওও..’ সুরে ডাকে। আবার ওড়ার সময় কণ্ঠস্বর পাল্টিয়ে ‘গেরর..গেরর’ সুরে ডাকতে শোনা যায়।

বাংলাদেশ ছাড়াও এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং ইউরোপ-আফ্রিকার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত। গত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা স্থিতিশীল বিধায় আইইউসিএন প্রজাতিটিকে আশঙ্কাহীন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও এরা শিকারি দ্বারা নির্যাতিত হয় ব্যাপক।

পাখির বাংলা নাম: ‘ঝুঁটি হাঁস’, ইংরেজি নাম: ‘টাফটেড ডাক’ (Tufted Duck), বৈজ্ঞানিক নাম: Aythya fuligula পরিযায়ী। এরা ‘টিকি হাঁস’ অথবা ‘কালো হাঁস’ নামেও পরিচিত।

লম্বায় ৪৩-৪৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৭০০-১০০০ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির মধ্যে খানিকটা পার্থক্য রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির রঙ বদলায়। এ সময় ওদের মাথায় কালো ঝুলন্ত ঝুঁটি দেখা যায়, তা ছাড়া মাথায় স্পষ্ট সাদা ফোঁটা এবং ঘাড় কালো দেখায়। এ ছাড়াও পিঠ, ডানার নিচ, লেজ ও বুকের পালক কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করে। কালো রঙ ধারণ করে ঠোঁটের অগ্রভাগও। এমনকি পা ও পায়ের পাতা কালচে হয়ে ওঠে। প্রজননের বাইরে পুরুষ পাখির মাথা, বুক বাদামি-কালো। ডানার নিচের দিকটা ধূসরাভ, থুতনি ও গলা সাদা। অপরদিকে স্ত্রী পাখির মাথা কালচে-বাদামি। পিঠ গাঢ় বাদামি। কপাল ও ঠোঁট সাদাটে।

প্রধান খাবার ছোট মাছ, ছোট ব্যাঙ, শামুক, কেঁচো ও জলজ পোকামাকড়। এ ছাড়াও জলজ উদ্ভিদের কচি ডগা ও বীজ খায়। প্রজনন মৌসুম মে মাস। এ সময় উত্তর ইউরোপ থেকে সাইবেরিয়ার নির্জন দ্বীপসমূহে অথবা নদ-নদীর তীরে শুকনো লতাপাতা জড়ো করে বাসা বাঁধে। এ ছাড়াও ভাসমান উদ্ভিদের ওপরেও বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৬-১০টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৩-২৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 08/08/2014