ধূসর টি-টি | Grey headed Lapwing | Vanellus Cinereus

628

ছবি: ইন্টারনেট।

পরিযায়ী পাখি। শীতে পরিযায়ী হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে হাজির হয়। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, নেপাল, উত্তর-পূর্ব চীন, কম্বোডিয়া, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। স্বভাবে চঞ্চল। স্থিরতা নেই ওদের মাঝে। কোথাও একদণ্ড দাঁড়িয়ে থাকার মতো সময় যেন ওদের নেই। সারাদিন দৌড় আর দৌড়। চঞ্চল হলেও একদম ঝগড়াঝাঁটির ধার ধারে না। দেখতে গো-বেচারা টাইপ চেহারা। মায়াবি গড়ন। শরীরের তুলনায় পা বেশ লম্বা। প্রজাতির অন্যসব টি-টি পাখিদের মতোই নদীর অববাহিকায় বিচরণ করে। স্যাঁতসেঁতে এলাকায় পোকামাকড় খুঁজে বেড়ায়। ছোট দলে কিংবা একাকী বিচরণ করে। হাঁটার সময় লেজ কাঁপিয়ে হাঁটে। খাবারের সন্ধানে অনেক সময় হাঁটুজল অবধি নেমে পড়ে। সরাসরি জলে নামতে দেখা যায় না খুব একটা বরং কাদাজলে হাঁটু অবধি নেমে খাবার খোঁজে। শুকনো ঘেসো মাঠেও বিচরণ করে। দৌড়ে দৌড়ে পোকামাকড় ধরে। শিকারের পিছু ধাওয়া করে মুহূর্তেই থেমে যায়। এটা ওদের শিকার কৌশলও হতে পারে। ‘ধূসর টি-টি’ সমুদ্র সৈকতেও দেখা যায়। বালুবেলায় শিকার খুঁজে বেড়ায়। শিকার খুঁজতে গিয়ে মাঝেমধ্যে তীক্ষ কণ্ঠে আওয়াজ করে।

পাখির বাংলা নাম: ‘ধূসর টি-টি’, ইংরেজি নাম: ‘গ্রে-হেডেড ল্যাপউইং’ (Grey-headed Lapwing), বৈজ্ঞানিক নাম: Vanellus Cinereus| এরা ‘মেটেমাথা টি-টি’ নামেও পরিচিত।

দৈর্ঘ্য কমবেশি ৩৪-৩৭ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম হলেও স্ত্রী পাখি আকারে সামন্য বড়। উভয়ের মাথা, ঘাড় ও গলা ধূসর। পিঠ ধূসর বাদামি। লেজের উপরের দিক বাদামি। অগ্রভাগ কালো। লেজের নিচের দিক সাদা। বুক ধূসর কালো। পেট সাদা। ঠোঁটের অগ্রভাগ কালো, বাদবাকি হলুদ। চোখ চোখের বলয় হলুদ, তারা লালচে-বাদামি। লম্বা লিকলিকে পা হলুদ রঙের। অপ্রাপ্তবয়স্কদের চেহারা ধূসর।

প্রধান খাবার পোকামাকড়, শুঁককীট ও ফড়িং। প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুলাই। জলাশয়ের পাশে তৃণভূমিতে অথবা ধান ক্ষেতের স্যাঁতসেঁতে স্থানে ঘাস লতা-পাতা দিয়ে বাস বাঁধে। ডিম পাড়ে ১-৫টি। তবে সাধারণত ডিম ৪টির নিচ পাড়ে না। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২০-২১ দিন। শাবক স্বাবলম্বী হয় ৪৫ দিনের মধ্যে।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 04/09/2015