পিয়ং হাঁস | Gadwall | Anas strepera

0
1822

ছবি: গুগল |

শীতের পরিযায়ী পাখি। হেমন্তের শুরুতেই বাংলাদেশে চলে আসে। আশ্রয় নেয় উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন জলাশয়ে, নলবনে কিংবা হাওর-বাঁওড় বা নদ-নদীতে। বিচরণ করে ঝাঁক বেঁধে। খাদ্য সংগ্রহ করে দেশি হাঁসের মতো ডুবিয়ে ডুবিয়ে। ওড়ার সময় ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ শোনা যায় শিসের মতো। পুরুষ পাখি তেমন একটা হাঁকডাক দেয় না। শুধু প্রজনন মৌসুমে শিস দিয়ে ডাকে। স্ত্রী পাখি ডাকে ‘গ্যাক-গ্যাক’ আওয়াজ করে। স্বভাবে বেশ শান্ত। অন্যান্য প্রজাতির হাঁসের সঙ্গে মিলেমিশে শিকারে বের হয়। বসন্তের শুরুতেই নিজ বাসভূমে ফিরে যায়।

প্রজাতির বিস্তৃতি ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকায়। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মালদ্বীপ ছাড়া প্রায় দেশেই কম-বেশি নজরে পড়ে (প্রায় ১ কোটি ৭৪ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এদের বিস্তৃতি)। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে আইইউসিএন প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত। এরা শিকারি দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে ব্যাপক। দেখতে কিছুটা দেশি হাঁসের মতো বিধায় মানুষকে সহজে ধোঁকা দিতে সক্ষম হয় শিকারিরা।

পাখির বাংলা নাম: ‘পিয়ং হাঁস’, ইংরেজি নাম: ‘গ্যাডওয়াল’ (Gadwall), বৈজ্ঞানিক নাম: Anas strepera | পরিযায়ী এরা ‘পিয়াং হাঁস’ নামেও পরিচিত।

লম্বায় ৫০-৫১ সেন্টিমিটার। ওজন ৭৪০ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির রং বদলায়। এ সময় ওদের ঠোঁট ধূসর, পিঠ ধূসর-বাদামি, ডানার প্রান্তে তামাটে পট্টি, বুকে গোল রেখা, পেট সাদা এবং লেজের তলা কালো দেখায়। প্রজননের বাইরে পুরুষ পাখির পিঠ কালচে হয়। মাথা গাঢ় বাদামির সঙ্গে কালচে হয়। স্ত্রী পাখি পুরুষদের চেয়ে কিছুটা বেশি বাদামি হয়। আর ঠোঁটের দু’পাশ থাকে হলদেটে। উভয় পাখির চোখ কালচে, পা, পায়ের পাতা বাদামি-হলুদ।

প্রধান খাবার জলজ উদ্ভিদের বীজ-কচিডগা এবং জলজ কীটপতঙ্গ। প্রজনন মৌসুম মে থেকে আগস্ট। মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও সাইবেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে জলাশয়ের কাছে মাটিতে বা ঝোপের ভেতরে শুকনো ঘাস-লতাপাতা দিয়ে বাসা বাঁধে। বাসা আরামদায়ক করতে নিজেদের ঝরা পালক দিয়ে বিছানা তৈরি করে নেয়। ডিম পাড়ে ৮-১০টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৫ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 13/06/2014