নীলশির হাঁস | Mallard | Anas platyrhynchos

1973

ছবি: গুগল

বিরল পরিযায়ী পাখি। শীতে আগমন ঘটে সাইবেরিয়া থেকে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, চীন ও জাপানে দেখা যায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজল্যান্ডে এদের বিস্তৃতি ঘটেছে। হাঁস প্রজাতির এ পাখি দেখতে অনেকটাই আমাদের দেশীয় গৃহপালিত হাঁসের মতো। এদের প্রধান আকর্ষণ মাথার উজ্জ্বল নীলাভ বর্ণ। বাংলাদেশের হাওর-বাঁওড় কিংবা অগভীর হ্রদ উপকূলীয় নদ-নদীতে শীতে বিচরণ করে। এরা একাকী চলাচল করে কম, বেশিরভাগই ঝাঁক বেঁধে চলে। শিকারে বের হয় দিন-রাতে। দেশি হাঁসের মতোই মাথা ডুবিয়ে খাবার খোঁজে। স্বভাবে শান্ত এবং লাজুক প্রকৃতির।

প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির হাঁকডাক বেড়ে যায়। ডাকে, ‘কিউয়্যাক-কিউয়্যাক’ সুরে। স্ত্রী পাখি ‘টিউকাটা-টিউকাটা’ সুরে ডাকে। বিশ্বে এ প্রজাতি পাখি বিপন্মুক্ত হলেও বাংলাদেশে বিরল প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে প্রজাতিটি বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রজাতিটি বাংলাদেশের শিকারিদের হাতে ব্যাপক নির্যাতিত হচ্ছে। দেখতে দেশি হাঁসের মতো বিধায় শিকারিরা সেই সুযোগ নিয়ে এ প্রজাতিকে ফাঁদ পেতে ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাঁট বাজারে অবাধে বিক্রি করছে। কয়েক বছর আগেও রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে প্রকাশ্যে বিকিকিনি হতে দেখেছি। বিক্রেতাদের কিছুতেই বোঝাতে সক্ষম হয়নি যে, এরা পরিযায়ী পাখি। ওদের একই কথা- এগুলো দেশি হাঁস। প্রিয় পাঠক, এ প্রজাতির হাঁস নজরে পড়লে ওদেরকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন আশা করি।

পাখির বাংলা নাম: ‘নীলশির হাঁস’, ইংরেজি নাম: ‘ম্যালার্ড’ (Mallard), বৈজ্ঞানিক নাম: ‘আনাস প্লাটিরহাইঙ্কস’(Anas platyrhynchos), গোত্রের নাম: ‘আনাটিদি’।

লম্বায় ৫৭ সেন্টিমিটার। ওজন ১ দশমিক ২ কেজি। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারা ও আকার কিছুটা ভিন্ন। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির রঙ বদলায়। তখন পুরুষ পাখির মাথা ও ঘাড় উজ্জ্বল গাঢ় সবুজ দেখায়। গলায় সরু সাদা বলয়। পিঠ গাঢ় ধূসর। ডানার গোড়ার দিকে আঁকিবুঁকি কালো রেখা। বুক বেগুনি-বাদামি। লেজের আচ্ছাদন ও মাঝের ঊর্ধ্বমুখী পালক কালো। পা কমলা। প্রজননের বাইরে পুরুষ পাখি অনেকটাই স্ত্রী পাখির রঙ ধারণ করে। অপরদিকে স্ত্রী পাখির দেহ বাদামির ওপর কালো ডোরা। ঠোঁটের গোড়া হলুদ, ডগা কালো। পা ও পায়ের পাতা প্রবাল লাল।

প্রধান খাবার মাছের রেণু পোনা, জলজগুল্ম, ছোট শামুক, ছোট ব্যাঙ, শস্যবীজ ইত্যাদি। প্রজনন সময় এপ্রিল থেকে জুলাই। সাইবেরিয়াঞ্চলের জলের কাছে ঘাস লতাপাতা দিয়ে বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ৬-১০টি। ডিম ফোটে ২৫-২৭ দিনে।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 17/03/2014