কালো তিতির | Black francolin | Francolinus francolinus

0
850

ছবি: গুগল |

বিরল আবাসিক পাখি। দেখতে অনেকটাই মুরগির মতো। দেশের যত্রতত্র দেখা যাওয়ার নজির নেই। বছর ত্রিশেক আগেও ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের পাতাঝরা বনে দেখা যেত। বর্তমানে পঞ্চগড়-দিনাজপুর অঞ্চলে কিছু কিছু দেখা যায়। তবে সেটি একেবারেই নগণ্য। দু-চারটি যদিও নজরে পড়ে তা কিনা আবার শিকারিদের টার্গেটে পরিণত হয়। ফলে এ প্রজাতি খুব দ্রুতই দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রজাতিটির সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে এক দশকের মধ্যেই এদের নাম নিশানা উধাও হয়ে যাবে বাংলাদেশ থেকে।

বাংলাদেশ ছাড়াও উত্তর ভারত, আসাম, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, নেপাল, পাঞ্জাব, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পূর্ব তুরস্ক এবং পূর্ব আফগানিস্তানে এদের বিচরণ রয়েছে। এরা বিশ্বে বিপন্মুক্ত হলেও বাংলাদেশে মহাবিপন্নের তালিকায় রয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে প্রজাতিটি সংরক্ষিত হয়েছে। এ পাখি উত্তরবঙ্গের উঁচু ঘাসবনে, আখখেতে, চা বাগানে কিংবা জলাশয়ের কাছাকাছি এলাকায় বিচরণ করে। দেখা যায় একাকি কিংবা জোড়ায় জোড়ায়। শিকারে বের হয় ভোরে এবং গোধূলিলগ্নে। এ সময় তীক্ষè স্বরে ডাকে ‘চিক..চিক..ক্রেকেক’ সুরে। পুরুষ পাখি প্রজনন মৌসুমে গলাটান করে বেশি বেশি চেঁচায়। এ পাখি বেশ উড়তেও পারে। তবে হেঁটে বা দৌড়েই অভ্যস্ত বেশি।

বাংলা নাম: ‘কালো তিতির’, ইংরেজি নাম: ‘ব্ল্যাক ফ্রানকোলিন’ (Black francolin), বৈজ্ঞানিক নাম: ‘ফ্রানকোলিনাস ফ্রানকোলিনাস’ (Francolinus francolinus), গোত্রের নাম: ‘ফাজিয়ানিদি’। এরা কালা তিতির নামেও পরিচিত।

লম্বায় ৩৪ সেন্টিমিটার। ওজন ৪৩০ গ্রাম। পুরুষ পাখির পিঠ ঘন-কালোর ওপর সাদা ও মেটে তিলা দাগ। মাথায় কালোর ওপর সাদা তিলা। মুখ কুচকুচে কালো। গাল সাদা, গলাবন্ধ লালচে। দেহের নিুাংশ কুচকুচে কালো। অপরদিকে স্ত্রী পাখির পিঠ ফিকে ও বাদামি। ঘাড়ের নিচের অংশ লালচে। কান-ঢাকনি হালকা পীত রঙের। দেহের নিুাংশে সাদাকালো ডোরার উপস্থিতি। লেজের তলা তামাটে। উভয়েরই ঠোঁট কালো। চোখ বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্কের বর্ণ স্ত্রী পাখির মতো। ওদের কালো বুকে সাদা তিলা দেখা যায়।

প্রধান খাবার শস্যদানা, কচিপাতা, পোকামাকড় ও ফল। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে অক্টোবর। লম্বা ঘাসের ঝোপে, আখখেতে অথবা মাটির গর্তে ঘাস বিছিয়ে বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ৬-৯টি। স্ত্রী পাখি নিজেই ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮-২০ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 27/12/2013