কুড়া ঈগল | Pallas’s fish eagle | Haliaeetus leucoryphus

2371

ছবি: গুগল |

মূলত উপমহাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা। কাশ্মীর থেকে হিমাচল, পাকিস্তান ও উত্তর ভারতের হিমালয়ের ১৮০০ ফুট উচ্চতায় আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ পর্যন্ত বিচরণ ক্ষেত্র। এ ছাড়াও দক্ষিণ রাশিয়া, মধ্য এশিয়া হয়ে ট্রান্স বৈকালিয়া, দক্ষিণ পারস্য উপসাগর ও উত্তর বার্মায় এদের বিস্তৃতি রয়েছে। আমাদের দেশের বড় নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় কিংবা দিঘি-নালার আশপাশে এক সময় বেশ দেখা যেত। গত কয়েক দশক ধরে এদের উপস্থিতি অপ্রতুল্য। যতদূর জানা যায়, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এদের অবস্থা সংকটাপন্ন। সে তুলনায় বাংলাদেশে উপস্থিতি সামান্য ভালো। এদের খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও বড় বড় বৃক্ষনিধনের ফলে প্রজননে বিঘ্ন ঘটছে।

এ পাখি উঁচু গাছের মগডালে বাসা বাঁধে। নিরাপদ মনে হলে দীর্ঘদিন একই স্থানে ডিম পাড়ে। পরবর্তী বছরগুলোতে শুধু বাসাটাকে মেরামত করে নেয়। বেশির ভাগ জোড়ায় জোড়ায় বিচরণ করে। এরা রাত-বিরাতে ডেকে ডেকে প্রহর ঘোষণা করে। ডাকে ‘অহক্ষয়-অহক্ষয়’ সুরে। আই.ইউ.সি.এন এ প্রজাতির পাখিকে বিপন্নের তালিকায় স্থান দিয়েছে। এতে করে পরিষ্কার হয়ে গেছে এদের ভূত-ভবিষ্যত আমাদের কাছে। আমি নিজ গ্রামে ছোটবেলায় এদেরকে বহুবার দেখেছি। এখনো মাঝেমধ্যে নজরে পড়ে, তবে তা কালেভদ্রে। সম্প্রতি দেখেছি ঢাকা চিড়িয়াখানায়। সেখানে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না আমার। জোর করে নিয়ে গেছে গিন্নির ছোট ভাই আলমগীর হোসেন। প্রকৃতিপ্রেমী এ মানুষটার কথা আমি ফেলতে পারিনি। কারণ সে আমাকে সব সময় উৎসাহিত করে পাখ-পাখালিদের নিয়ে কিছু লিখতে। উদ্ভিদ ও ফুল নিয়ে লিখতেও অনুরোধ করেছে। একবার ফুল সংক্রান্ত একগাদা বই আমাকে উপহার দিয়েছে তা থেকে তালিম নিতে। কথা দিয়েছি সুযোগ পেলে অবশ্যই লিখব। পাঠক, নিশ্চয়ই চিড়িখানায় এ পাখি আপনারা দেখেছেন, তথাপিও যৎসামান্য পরিচিতি তুলে ধরছি।

পাখির বাংলা নাম: ‘কুড়া ঈগল’, ইংরেজি নাম: ‘প্যালাসেস ফিশি ঈগল’ (Pallas’s fish eagle), বৈজ্ঞানিক নাম: ‘হালিয়াইটাস লিউকরাইফাস’ (Haliaeetus leucoryphus), গোত্রের নাম: ‘এ্যাকসিপিট্রিদি’।

লম্বায় ৭৬-৮৪ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড় ও গলা ফিকে সোনালি- পাটকিলে। পিঠ গাঢ় বাদামি। লেজের গোড়া ও অগ্রভাগ কালো, মাঝখানটায় সাদা বলয়। বুক থেকে নিচের দিকে ক্রমান্বয়ে ফিকে থেকে গাঢ় বাদামি রঙ ধারণ করেছে। ঠোঁট গাঢ় সেøট-কালো। পা হলদেটে সাদা।

প্রধান খাবার মাছ, সাপ, ব্যাঙ। প্রজনন সময় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ। বাসা বাঁধে উঁচু গাছের শিখরে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ঘাস, লতাপাতা ব্যবহার করে। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৫-২৭ দিন।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলামলেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: দৈনিক মানবকণ্ঠ, 01/11/2013