রঙিলা চ্যাগা | Painted snipe | Rostratula Benghalensis

1160
রঙিলা চ্যাগা | ছবি: ইন্টারনেট

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এদের বিচরণ। আমাদের দেশে ঝোঁপ-জঙ্গল ঘেরা জলাশয় কিংবা নদীর তীরে এদের বেশি দেখা যায়। এরা নিশাচর। তবে খুব ভোরে কিংবা শেষ বিকালেও শিকারে বেরোয়। স্বভাবে নিরীহ। যতদূর সম্ভব নিজেদের আড়াল করে রাখতে পছন্দ করে। ভয় পেলে ছুটে পালায়। এ জাতের পাখির মধ্যে স্ত্রীরাই দেখতে সুন্দর। পুরুষ পাখি অনেকখানি নিষ্প্রভ। স্ত্রীরা বহুগামী। রূপটাকে কাজে লাগিয়ে পুরুষ পাখিকে আকৃষ্ট করে এরা। এছাড়াও নানা ফন্দিতে ওরা পুরুষ পাখির সঙ্গে ভাব জমায়। এমনকি অন্য স্ত্রী পাখির কাছ থেকে পুরুষ পাখিকে ভাগিয়ে সংসার পাতে। তবে ওদের সংসার একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। শুধু ডিম পাড়া শেষ হলে সংসারও শেষ। তারপর তারা কেউ কাউকে চেনে না।

পাখিটার বাংলা নাম: ‘রঙিলা চ্যাগা’, ইংরেজি নাম: ‘পেইন্টেড স্লাইপ'(Painted snipe), বৈজ্ঞানিক নাম: Rostratula Benghalensis গোত্রের নাম: ‘রস্ট্রাটুলিদি’। সংস্কৃত সাহিত্যে এদেরকে ‘কুনাল পাখি নামে উল্লেখ করেছে।

এরা লম্বায় ২৭-২৮ সেন্টিমিটার। স্ত্রী পাখি খানিকটা খাটো। পুরুষ পাখির চিবুক, ঘাড়ের দু’পাশ গলা, বুক বাদামির ওপর সাদা ছিট। বুকের শেষে কালচে-সাদা পাট্টি। কণীনিকা বাদামি। ঠোঁটের সরু গোড়া হালকা সবুজ। ঠোঁটের ডগা সামান্য বাঁকানো। অপরদিকে স্ত্রী পাখির রূপ ভিন্ন। ওপরের পালক ধাতব জলপাই সবুজের ওপর সামান্য হলুদ। এতে কালচে টান ও ছোপ রয়েছে। চোখ বড় বড়। চোখের চারপাশে সাদা বলয়। বলয়টি চোখ ছাড়িয়ে ঘাড়ে গিয়ে ঠেকেছে। সাদাটে দাগটি চিবুক গলা হয়ে বুকের উপরাংশে ঠেকেছে। বুকের নিম্নাংশ কালচে থেকে সাদা হয়ে নিচের দিকে পৌঁছেছে। স্ত্রী-পুরুষ উভয় পাখিরই লেজটা ছোট। তবে পা লম্বা।

এরা সাধারণত ধান গাছ বা ঘাসের কচি ডগা, পোকামাকড় ইত্যাদি খায়। প্রজনন সময় গ্রীষ্ম থেকে বর্ষাকাল। এ সময় পুরুষ পাখিটি মাটির ওপর ঘাস লতাপাতা বিছিয়ে বাসা বানায়। বাসা তৈরি হলে স্ত্রী পাখি ২-৪টি ডিম পেড়ে পালিয়ে যায়। পুরুষ পাখি ১৫-২১ দিন ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে ওদের লালন পালন করে।

লেখক: আলম শাইন। কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, 13/12/2018

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Time limit is exhausted. Please reload the CAPTCHA.